কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে, রাজ্যপালের হাতে শপথ
কলকাতা হাইকোর্ট অবশেষে পেল স্থায়ী প্রধান বিচারপতি। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে (Ravindra V. Ghuge)। কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক এক নম্বর আদালতকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁকে প্রধান বিচারপতির পদ ও গোপনীয়তার শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে কলকাতা হাইকোর্ট স্থায়ী প্রধান বিচারপতি ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চলছিল। বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। অবশেষে বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের নিয়োগ এবং শপথের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হল।
নতুন প্রধান বিচারপতি কলকাতা হাইকোর্টের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের জুনে তিনি বম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ আইনজীবী ও বিচারপতি জীবনের অভিজ্ঞতাই নতুন দায়িত্বে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি কে রবীন্দ্র ভি. ঘুগে?
বিচারপতি রবীন্দ্র ভিঠালরাও ঘুগে মূলত বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দীর্ঘদিন বিচারবিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আইনজীবী হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা ১৯৯০ সালে। পরে বিচারপতি হিসেবে বম্বে হাইকোর্টে দায়িত্ব পালন করেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন।
তাঁর পেশাগত জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল আইনজীবী হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মামলায় কাজ করার অভিজ্ঞতা। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমিকদের হয়ে বহু মামলায় সওয়াল করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে শিল্প সংস্থা ও বহুজাতিক সংস্থার হয়েও তিনি আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রের আইনি বিষয়ে কাজ করার এই অভিজ্ঞতা তাঁর বিচারপতি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।also read
শপথগ্রহণের দিন কী ঘটল?
বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টের এক নম্বর আদালতকক্ষে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগেকে প্রধান বিচারপতির পদে শপথ পাঠ করান। এই শপথের মধ্য দিয়েই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী এবং বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিক এক নম্বর আদালতকক্ষেই এই অনুষ্ঠান হওয়ায় শপথগ্রহণের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারব্যবস্থায় প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব প্রশাসনিক এবং বিচারিক—দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক নজরে নতুন প্রধান বিচারপতি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে |
| ইংরেজি নাম | Justice Ravindra V. Ghuge |
| নতুন পদ | প্রধান বিচারপতি, কলকাতা হাইকোর্ট |
| কলকাতা হাইকোর্টে পদমর্যাদা | ৪৫তম প্রধান বিচারপতি |
| শপথের তারিখ | ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| শপথের সময় | সকাল ১০টা |
| শপথের স্থান | কলকাতা হাইকোর্টের আদালতকক্ষ নম্বর ১ |
| শপথ পাঠ করান | রাজ্যপাল আর এন রবি |
| পূর্ববর্তী দায়িত্ব | বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি |
| সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব | বম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি |
| আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু | ১৯৯০ |
| পূর্ববর্তী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি | বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী |
উপরের তথ্যগুলি সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদন ও প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। read more
কেন কলকাতা হাইকোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?
কলকাতা হাইকোর্ট দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ আদালত। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার বিস্তৃত ক্ষেত্রের সঙ্গে এই আদালতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। একটি উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি শুধু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বেঞ্চে বসেন না, আদালতের প্রশাসনিক কাজকর্মেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রধান বিচারপতির দায়িত্বের মধ্যে বেঞ্চ গঠন, মামলার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, বিচারপতিদের কাজের বণ্টন এবং আদালতের সামগ্রিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা বিষয় থাকে। তাই দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অধীনে চলার পর একজন স্থায়ী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ আদালতের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের শপথের মধ্য দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট সেই স্থায়ী নেতৃত্ব ফিরে পেল। তাঁর দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা আগামী দিনে আদালতের প্রশাসনিক ও বিচারিক কাজকে কীভাবে প্রভাবিত করে, সেদিকেই নজর থাকবে আইনজীবী মহল এবং সাধারণ মানুষের।
বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর কী হয়েছিল?
কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি সুজয় পাল। তিনি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্টের ৪৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাঁর মেয়াদ অবশ্য দীর্ঘ হয়নি, কারণ ২০ জুন ২০২৬ তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর প্রধান বিচারপতির পদটি খালি হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ২২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর কলকাতা হাইকোর্টে স্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোয়। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের নাম সামনে আসে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর তাঁর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ পরিষ্কার হয়।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ভূমিকা
বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। ১৯ জুনের সরকারি নিয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্বের কাজ সামলান।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সাধারণত একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। স্থায়ী প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত আদালতের প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রম যাতে স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে, সেটিই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অন্তর্বর্তী পর্বেরও অবসান ঘটল।
কীভাবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে ঘুগের নাম এল?
উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ। এই নিয়োগে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম তাঁর নাম কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদের জন্য সুপারিশ করেছিল।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, কলেজিয়ামের সুপারিশের প্রায় এক মাস পর কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এরপরই শপথগ্রহণের মাধ্যমে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।
এই নিয়োগের মাধ্যমে বম্বে হাইকোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।
বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের আইনজীবী জীবন
বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে ১৯৯০ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। আইনজীবী হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিভিন্ন ধরনের মকদ্দমায় কাজ করার সুযোগ।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কর্মজীবনের প্রথম দিকে তিনি শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রমিকদের হয়ে প্রায় দুই হাজার মামলায় সওয়াল করেছিলেন। পরে কর্পোরেট ও বহুজাতিক সংস্থার হয়েও তিনি প্রায় ২৫০টি মামলায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনের বিস্তৃত পরিসরকে তুলে ধরে। একদিকে শ্রমিক ও ইউনিয়নের বিষয়, অন্যদিকে কর্পোরেট ও শিল্প সংস্থার আইনি বিষয়—দুই ধরনের ক্ষেত্রেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
শিক্ষা ও পেশাগত প্রস্তুতি
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি ঘুগে ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের এমপি ল’ কলেজ থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। ১৯৯০ সালেই তাঁর আইনজীবী জীবনের শুরু।
আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরে ২০১৩ সালের ২১ জুন তিনি বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। এর পর তিনি দীর্ঘ সময় বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিচারপতি হওয়ার আগে আদালতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বিচারপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ—দুইয়ের সমন্বয় তাঁর বর্তমান দায়িত্বকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
বম্বে হাইকোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার আগে বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে বম্বে হাইকোর্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি বম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বও পালন করেন।
এরপর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত হয়। ফলে তাঁর বিচারিক জীবনে এটি একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বম্বে হাইকোর্টের মতো বৃহৎ উচ্চ আদালতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কলকাতা হাইকোর্টের নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নতুন দায়িত্বে তাঁর অগ্রাধিকার এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে আরও সময় প্রয়োজন।
কলকাতা হাইকোর্টের জন্য এই নিয়োগের তাৎপর্য
স্থায়ী প্রধান বিচারপতি না থাকলে আদালতের কাজ থেমে যায় না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতিরা নিয়মিত বিচারিক কাজ চালিয়ে যান। তবে স্থায়ী প্রধান বিচারপতির নিয়োগ আদালতের নেতৃত্বে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করে।
প্রধান বিচারপতি আদালতের প্রশাসনিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে নতুন প্রধান বিচারপতির আগমন আদালতের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে ধারাবাহিকতা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
আইনজীবী মহলের কাছে এই নিয়োগের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ আদালতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বেঞ্চের বিন্যাস এবং বিচারিক কাজের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রধান বিচারপতির ভূমিকা রয়েছে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিলেন?
বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যপাল আর এন রবি শপথ পাঠ করানোর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী এবং বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন হাইকোর্টের বর্তমান ও প্রাক্তন বিচারপতিদেরও অনুষ্ঠানে দেখা যায়।
প্রধান বিচারপতির সামনে কী কী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব?
একটি উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব বহুমাত্রিক। বিচারিক দায়িত্বের পাশাপাশি আদালতের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও এই পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিচারিক দায়িত্ব
প্রধান বিচারপতি নিজে বিভিন্ন মামলার শুনানিতে অংশ নেন। গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক, দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং অন্যান্য আইনি বিষয়ে বেঞ্চে বসে সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর থাকে।
প্রশাসনিক দায়িত্ব
আদালতের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও প্রধান বিচারপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন বেঞ্চের কাজের বণ্টন, মামলা পরিচালনার প্রশাসনিক কাঠামো এবং আদালতের সামগ্রিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় তাঁর দায়িত্বের অংশ।
বিচারব্যবস্থার দক্ষতা
আদালতে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে মামলা পরিচালনা করা বিচারব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। নতুন প্রধান বিচারপতির অভিজ্ঞতা এই ক্ষেত্রে কী ভূমিকা নেয়, তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে।
বিচারপতি ঘুগের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিচারপতি ঘুগে প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আইন ও বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯০ সালে আইনজীবী হিসেবে শুরু করে ২০১৩ সালে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া—এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি আদালতের বিভিন্ন দিক কাছ থেকে দেখেছেন।
একজন বিচারপতির জন্য আইনজীবী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে আদালতের কার্যপ্রণালী, মামলা পরিচালনার বাস্তবতা এবং বিভিন্ন পক্ষের আইনি যুক্তি সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
তার সঙ্গে দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা যুক্ত হওয়ায় প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর পেশাগত পরিপক্বতা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে।
শ্রমিক মামলা থেকে কর্পোরেট আইন—বিস্তৃত অভিজ্ঞতা
বিচারপতি ঘুগের কর্মজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হল তাঁর মামলার বৈচিত্র্য। শুরুতে শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমিকদের হয়ে বহু মামলায় সওয়াল করার পাশাপাশি তিনি পরবর্তী সময়ে শিল্প ও বহুজাতিক সংস্থার হয়েও আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।
এর ফলে কর্মক্ষেত্রের বিরোধ, শ্রম আইন, শিল্প সংক্রান্ত বিষয় এবং কর্পোরেট আইনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে বোঝা যায়।
একজন উচ্চ আদালতের বিচারপতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের মামলার অভিজ্ঞতা বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
আইনজীবী থেকে প্রধান বিচারপতি—দীর্ঘ যাত্রা
রবীন্দ্র ভি. ঘুগের পেশাগত যাত্রাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
১৯৯০: আইনজীবী হিসেবে শুরু
১৯৯০ সালে আইনজীবী হিসেবে বম্বে হাইকোর্টে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।
২০১৩: বিচারপতি হিসেবে নতুন অধ্যায়
২১ জুন ২০১৩ সালে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।
২০২৬: বম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি
২০২৬ সালের জুনে তিনি বম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সেপ্টেম্বর ২০২৬: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
এই দীর্ঘ সময়ের যাত্রা একজন আইনজীবী থেকে দেশের একটি ঐতিহাসিক উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির পদে পৌঁছনোর ধারাবাহিকতা তুলে ধরে।
কলকাতা হাইকোর্টে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের শপথ শুধু একজন নতুন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ নয়, কলকাতা হাইকোর্টের প্রশাসনিক নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনাও।
বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর যে অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী সেই সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে ঘুগের শপথ সেই পর্বের সমাপ্তি ঘটিয়েছে।
এখন তাঁর সামনে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারিক ও প্রশাসনিক কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব। আদালতে বিচারাধীন বিপুল সংখ্যক মামলা, বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা এবং আদালতের প্রশাসনিক কার্যক্রম—সব মিলিয়ে তাঁর দায়িত্ব নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ মানুষের জন্য এই খবরের গুরুত্ব কী?
প্রধান বিচারপতি নিয়োগের খবর সাধারণ মানুষের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উচ্চ আদালত নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, দেওয়ানি বিরোধ, ফৌজদারি বিষয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে বিচার পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
কলকাতা হাইকোর্টে স্থায়ী প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার ফলে আদালতের প্রশাসনিক নেতৃত্বে স্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব আদালতের নিয়মিত কার্যক্রমে কীভাবে দেখা যায়, তা সময়ের সঙ্গে বোঝা যাবে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—প্রধান বিচারপতি পরিবর্তন মানেই প্রতিটি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। মামলা নিষ্পত্তির গতি নির্ভর করে মামলার সংখ্যা, বিষয়টির জটিলতা, পক্ষগুলির প্রস্তুতি, আদালতের সময় এবং অন্যান্য নানা বিষয়ের উপর।
কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে কে?
বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে বম্বে হাইকোর্টের দীর্ঘদিনের বিচারপতি এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। তিনি ১৯৯০ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০১৩ সালে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হন।
রবীন্দ্র ঘুগে কবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন?
তিনি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।
তিনি কলকাতা হাইকোর্টের কততম প্রধান বিচারপতি?
প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁকে কে শপথ পাঠ করান?
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগেকে প্রধান বিচারপতির পদে শপথ পাঠ করান।
কোথায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়?
কলকাতা হাইকোর্টের আদালতকক্ষ নম্বর ১-এ সকাল ১০টায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়।
তাঁর আগে কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন?
বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সুজয় পাল কবে অবসর নেন?
বিচারপতি সুজয় পাল ২০ জুন ২০২৬ অবসর গ্রহণ করেন। এরপরই বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন।
রবীন্দ্র ঘুগে আগে কোথায় কাজ করতেন?
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার আগে তিনি বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। ২০২৬ সালের জুনে তিনি বম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বও পালন করেন।
তিনি কবে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন?
১৯৯০ সালে আইনজীবী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
তিনি কবে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হন?
২১ জুন ২০১৩ সালে তিনি বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন।
শেষ কথা
কলকাতা হাইকোর্ট অবশেষে একজন স্থায়ী প্রধান বিচারপতি পেল। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের শপথের মধ্য দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। দীর্ঘ আইনজীবী জীবন, বহু বছরের বিচারিক অভিজ্ঞতা এবং বম্বে হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দায়িত্ব সামলাবেন।
বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে আদালতের কাজ পরিচালনা করেছিলেন। সেই অন্তর্বর্তী পর্ব শেষ করে এবার স্থায়ী প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কলকাতা হাইকোর্ট এগিয়ে চলবে।
নতুন প্রধান বিচারপতির সামনে একদিকে রয়েছে আদালতের বিপুল বিচারাধীন মামলা, অন্যদিকে রয়েছে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কলকাতা হাইকোর্টের ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও বিচারিক কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সব মিলিয়ে, বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথগ্রহণ শুধু একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়; এটি রাজ্যের বিচারব্যবস্থার নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
Table of Contents
সংক্ষিপ্ত সারাংশ
- কলকাতা হাইকোর্টের নতুন স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হলেন বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে।
- ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি শপথ নেন।
- তাঁকে শপথ পাঠ করান পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি।
- শপথগ্রহণ হয় কলকাতা হাইকোর্টের আদালতকক্ষ নম্বর ১-এ।
- তিনি কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি।
- এর আগে তিনি বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন।
- ২০২৬ সালের জুনে তিনি বম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৯০ সালে আইনজীবী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- ২০১৩ সালে তিনি বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হন।
- বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
- নতুন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টে স্থায়ী নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হল।